নীল নয়োনা এবার নাটকের শেষ অংশটা আমিই সাজিয়ে দেখতে চাই
যে প্রথম অংশটা তুমি রচনা ও অভিনয় করে আমাকে দেখিয়েছ
সভ্যতার চরম প্রতারণাময়ী নারী তুমি; যেখানে ফর্সা চেহেরার ভিতর,
লুকিয়ে রেখেছিলে মুনাফিকের কার্যসিদ্ধ,দুঠোটের ভিতর ঝেরেছ মিথ্যার নির্যাস
অভিনয়ের পর অভিনয়,নাটকের পর নাটক,কতটা নাটক সাজাতে পার তুমি?
তুমি ভেব না নাটকের প্রথম দৃশ্যে বিজয়ী হয়েছ;নিজেকে একবার প্রশ্ন করে দেখ-
সত্যের প্রদীপের আলো কতক্ষণ মিথ্যার অন্ধকার দিয়ে ঢেকে রাখা যায়?
এবার নাটকের শেষ অংশে দেখ তোমার কি করুণ হাল?
তোমার সাথে দেখা হবে আমার একটা হাসপাতালের শায়িত রোগ শয্যায়,
স্বীয় পাপের দরুণ তুমি হবে কঠিন রোগে আক্রান্ত,প্রত্যাশা করতে থাকে আমায়
এই করুণ সময়ে যার হাত ধরে বেরিয়েছিলে বাবার ঘর থেকে,সে কিন্তু অদৃশ্য
চরম অনুতাপের দরুণ তোমার চোখ জুড়ে প্লাবিত হবে কান্নার শ্রাবণ
আফছোস আর লজ্জায় মুখের ভিতর রাখবে পরনের আচল,নিজেকে ভাববে অপরাধী
সে সময়েও তোমার পাশে গিয়ে দাঁড়াবো আপনজনের মতোই,সেদিন যেমনই ছিলাম।
এবার নাটকের শেষ দৃশ্যায়ন; তুমি কামনা করছো আমাকে হাসপাতালের বেডে শুয়ে
মুঠোফোনে কথা বলতে লজ্জা হচ্ছে তোমার; কোন মুখে কথা বলবে আমার সাথে ভেবে
শত লজ্জা আর সংকোচ; ভাবছো মরার পূর্বে আমার কাছ থেকে ক্ষমা পাবে কীনা?
আমি ঠিক সন্ধ্যার পূর্ব মুহুর্তে তোমার কাছে হাজির হব,সঙ্গে থাকবে তোমার পছন্দের সব খাবার
তুমি হাউমাউ করে কেঁদে উঠবে,চোখের জলের সাথে বুঝাতে চাইবে সমস্ত ভুলের মাসুল
আমি পাশে গিয়ে সেই প্রিয় আপন স্বামী হয়েই মুছে দিব তোমার চোখের জল
প্রথম বেলার প্রেমের দৃশ্য কল্পনা করতে করতে হারিয়ে যেতে চাইবে তুমি.........।
নীল নয়োনা আমি তো তোমার মতো প্রতারণার নাটক সাজাতে পারদর্শী নই,
প্রেমের ফুল পদদলিত করে নোংড়া মনের ডাষ্টবিনে ফেলবার পাত্র আমি নই
আমি তো ভালোবাসি স্রষ্টা প্রদত্ত প্রেম; ভালোবাসা তো স্বর্গের পরম উপহার
এবার তুমি উঠে দাঁড়াবে,পরিপূর্ণ সুস্থ্য হয়ে ধরতে চাইবে এই মানুষটির হাত
যেভাবে অকুল দরিয়ায় হঠাৎ ডুবে যাওয়া কেউ,খুজতে থাকে বেঁচে থাকার কিনার
তুমিও হঠাৎ পা রেখেছিলে ভুলের রাস্তায়,যেখানে দেখতেছিলে আলো থেকে আঁধার
নাটকের শেষ অধ্যায়ে এসে বুঝতে পারলে;ভুলের পরিনাম শান্তি নয়,ক্লান্তির আঁধার।
২৯ জানুয়ারী ২০১৩,মঙ্গলবার।